
এম. বেদারুল আলম :
অবশেষে কক্সবাজারের ৪ আসনের মধ্যে ৩টি আসনের প্রার্থী চূড়ান্ত করেছে বিএনপি। ফলে ঝুলে রইল মহেশখালী – কুতুবদিয়া আসনের সাবেক সাংসদ আলমগীর মোঃ মাহফুজ উল্লাহ ফরিদের ভাগ্য। কক্সবাজার-২ আসনটি ২০ দলীয় জোট কিংবা ঐক্যফ্রন্টের কোন শরীককে দিচ্ছে কিনা তা এখনো জানা যায়নি। তবে শুরু থেকেই সাবেক সাংসদ জামাতের কেন্দ্রিয় নেতা মোঃ হামিদুর রহমান আযাদকে পুনরায় ছেড়ে দেওয়ার খবর ভোটের মাঠে চাউর হয়। আসলে উক্ত আসন থেকে কাকে মনোনয়ন চূড়ান্ত করছে তা জানা যাবে আজ সন্ধ্যা অবধি এমনটাই নিশ্চিত করেছে একটি সূত্র। শরীকদের আজ মঙ্গলবার প্রার্থী তালিকা চূড়ান্ত করে চিঠি প্রদান করলে নিশ্চিত হওয়া যাবে কে হচ্ছেন মহেশখালী- কুতুবদিয়ার চূড়ান্ত প্রার্থী। তবে কক্সবাজার সব ক’টি আসনে যে ‘গরম’ নির্বাচন চলবে তা বিএনপির প্রার্থীদের মনোনয়ন দেখে সহজে অনুধাবন করা যায়।
প্রার্থী মনোনয়ন চূড়ান্তের বিষয়ে জেলা বিএনপির সভাপতি সাবেক হুইপ শাহজাহান চৌধুরী দৈনিক কক্সবাজারকে জানান, একাদশ জাতীয় সংস নির্বাচন উপলক্ষ্যে কক্সবাজার জেলার চারটি আসনের মধ্যে তিনটিতে প্রার্থী চূড়ান্ত করেছে বিএনপি। টিকেট নিশ্চিত হওয়া প্রার্থীগণ হলেন কক্সবাজার-১ (চকরিয়া-পেুকুয়া) এডভোকেট হাসিনা আহামদ, কক্সবাজার-৩ (সদর-রামু) লুৎফুর রহমান কাজল ও কক্সবাজার-৪ (উখিয়া-টেকনাফ) আসনে শাহজাহান চৌধুরী। গতকাল ২৬ নভেম্বর বেলা আড়াইটার দিকে বিএনপি’র চেয়ারপার্সনের গুলশান কার্যালয়ে বিএনপি’র মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর উক্ত প্রার্থীতা নিশ্চিত করেন। প্রার্থীদের উক্ত স্বাক্ষরিত স্ব স্ব আসনের মনোনয়নপত্র হস্তান্তর করা হয় বলে তিনি জানান। তবে কক্সবাজার -২ আসনের প্রার্থীতা এখনো নিশ্চিত করা হয়নি। এ আসন থেকে কাকে মনোনয়ন দেবে তা আজ মঙ্গলবার জানা যেতে পারে বলে ও তিনি জানান।
অপরদিকে নির্বাচনের প্রস্তুতি বিষয়ে জেলা বিএনপির সভাপতি শাহাজাহান চৌধুরী আরো বলেন, আমরা কেন্দ্রের নির্দেশে নির্বাচনের জন্য আগে থেকেই প্রস্তুতি গ্রহণ করেছি। গতকাল প্রার্থীতা নিশ্চিত হওয়ার পর জেলার প্রত্যন্ত এলাকায় তৃনমূলে নেতাকর্মীদের মাঝে উৎসাহ উদ্দিপনা সৃষ্টি হয়েছে। ভোটাররা নিবিঘের্œ তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ যেন করতে পারে সেই মাঠ নিশ্চিত করা নির্বাচন কমিশনের দায়িত্ব। ভোটের মাঠে এখনো লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড সৃষ্টি হয়নি দাবি করে উখিয়া-টেকনাফ আসনের এ প্রার্থী বলেন- টেকনাফের ভোটাররা এখনো আতংকিত। প্রতিদিন মাদক বিরোধী অভিযান চলছে। চলছে ক্রসফায়ার। আমরা ও চাই মাদক সমূলে নিমূর্ল হোক, মাদকমুক্ত হোক টেকনাফ তথা পুরো কক্সবাজার। তবে ৩০ ডিসেম্বর পর্যন্ত অর্থাৎ ভোটের দিন পর্যন্ত সাধারন মানুষের আতংক কমাতে অভিযান যেন শিথিল করা হয়। সাধারন মানুষ যেন ডরভয়হীন ভোট কেন্দ্রে যেতে পারে। ভোট দিতে পারে।
জেলা বিএনপির মুখপাত্র দপ্তর সম্পাদক মোঃ ইউসুফ বদরী মহেশখালী -কুতুবদিয়া আসনের প্রার্থী চূড়ান্তকরণের বিষয়ে জানান, উক্ত আসনটি ধানের শীষের ঘাঁটি। সেখানে আমাদের ৪ জন প্রার্থী রয়েছে । তারা হলেন- সাবেক সাংসদ আলমগীর মোঃ মাহফুজুল্লাহ ফরিদ, জেলা বিএনপির সহ সভাপতি এটিএম নুরুল বশর চৌধুরী, এডভোকেট নুরুল আলম এবং মহেশখালী উপজেলা বিএনপির আহবায়ক আবু বক্কর। তাদের মধ্যে কে যোগ্য তা নির্বাচন করবে কেন্দ্র। এটি কেন্দ্র থেকে আসলে নিশ্চিত হতে পারব উক্ত আসনে কাকে চূড়ান্ত মনোনয়ন দিচ্ছে। তবে বিএনপির শক্ত এ ঘাঁটিতে যাকেই মনোনয়ন দেওয়া হোকনা কেন তিনিই জয় ছিনিয়ে আনতে সক্ষম হবেন বলে এ বিএনপি নেতার বিশ্বাস।
এদিকে নাম প্রকাশ না করার শর্তে জেলা বিএনপির কয়েকজন নেতা জানান, মহেশখালী-কুতুবদিয়া আসনের সাবেক সাংসদ জামাতের কেন্দ্রিয় নেতা মোঃ হামিদুর রহমান আযাদ যদি নির্বাচন করতে পারে তাহলে হয়ত তাকে জোটগতভাবে মনোনয়ন দিতে পারে। আইনি জটিলতা কিংবা আসন ভাগাভাগির মারপ্যাঁচে যদি বিএনপির সাবেক সাংসদ আলমগীর মোঃ মাহফুজ উল্লাহ ফরিদ বাদ পড়েন তাতে অবাক হওয়ার কিছু থাকবেনা বলে উক্ত নেতাদের অভিমত।
উল্লেখ্য যে সমস্ত আসনে বিএনপি কিংবা ২০ দলীয় জোটের অথবা জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের জোরালো ও হেভিওয়েট প্রার্থী নেই এবং প্রার্থী মনোনয়নে কোন জটিলতা নেই শুধুমাত্র সে ধরনের ২২০ টি আসনে গোপনীয়তা রক্ষা করে গত রোববার রাত থেকে দলের চুড়ান্ত মনোনয়নপত্র প্রদান করা হচ্ছে বলে জেলা বিএনপি’র একাধিক সুত্রে জানা গেছে। কক্সবাজারের মনোনয়নপ্রাপ্ত তিনজনই স্ব স্ব আসনের সাবেক সংসদ সদস্য। তারা অতীতে তাদের বিশ্বাসের মর্যাদা দিয়েছেন বলে বিএনপির কয়েকজন নেতার দাবি। সরকার ভোটের মাঠে নিরপেক্ষতা বজায় রেখে ভোটারদের অধিকার ভোটদানের সুযোগ সৃষ্টি করলে কক্সবাজারের সব আসনে বিপুল ভোটে বিএনপি বিজয় লাভ করবে বলে দাবি নেতাদের।
সুত্র: দৈনিক কক্সবাজার
পাঠকের মতামত